প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 7, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 20, 2026 ইং
দুধ জোটেনি, চিকিৎসাও নয়—হুসাইনের পাশে দাঁড়ালেন ডা. জুবাইদা

মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি:
কোলের শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় বসে অসহায় দাদির চোখে তখন শুধু দুশ্চিন্তা। সাত মাস বয়সী হুসাইন অসুস্থ। মায়ের বুকের দুধও পাচ্ছে না। শিশুর জন্য দুধ কিনতে হবে, চিকিৎসা করাতে হবে—কিন্তু পরিবারের সেই সামর্থ্য নেই। বৃদ্ধ দাদির সামান্য আয়েই কোনো রকমে চলে সংসার।
খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীফলতলা গ্রামের এই পরিবারের অসহায়ত্বের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের। তিনি শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন।
জেডআরএফের পরিচালক (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে হুসাইন ও তার পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন ডা. জুবাইদা রহমান। জেডআরএফের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের তালিকায় ডা. জুবাইদা রহমানকে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে পরিচালক (প্রোগ্রাম) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হুসাইনের বাবা হারুণ ও মা দুজনেই শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে শিশুটির দেখভাল ও পরিবারের খরচ চালানোর মূল দায়িত্ব পড়ে বৃদ্ধ দাদির ওপর। তিনি ভিক্ষা করে কোনোভাবে সংসার চালান। পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা করাই যেখানে কঠিন, সেখানে শিশুর দুধ ও চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
পরিবারের ভাষ্য, মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় একপর্যায়ে শিশুটিকে লবণ পানি খাওয়ানো হয়েছিল। পরে হুসাইনের শরীরে গুরুতর অপুষ্টির পাশাপাশি ত্বকের সমস্যা ও মুখে ক্যান্ডিডিয়াসিসের উপসর্গ দেখা দেয় বলে তারা জানায়।
এরপর জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ফাউন্ডেশনের সদস্য ডা. এম. আর. হাসানের তত্ত্বাবধানে হুসাইন ও তার পরিবারকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিশুটির চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় দুধ এবং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়। কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত।
নাতিকে কোলে নিয়ে দাদি বলেন, “আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। বাচ্চাটার দুধ কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আমি আমার নাতিটাকে বাঁচাতে চাই।” অসহায় সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি ডা. জুবাইদা রহমান ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হুসাইনের চিকিৎসার বিষয়টি কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের তালিকায় তারেক রহমানকে প্রেসিডেন্ট এবং ডা. জুবাইদা রহমানকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ আজকের যায় যায় বেলা